September 27, 2021, 1:16 pm
Headlines
British State Minister for Foreign Affairs calls on Foreign Minister Momen পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নতুন বই ‘জাতির উদ্দেশে ভাষণ : শেখ হাসিনা’ SSC exams start on Nov 14, HSC on Dec 2 রাতে ফাইজারের আরো ২৫ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন দেশে আসছে September 28 : Prime Minister Sheikh Hasina turns 75 রোবটিক্স বিলাসিতা নয় বরং নিত্য প্রয়োজনীয় : পলক জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জন্মনিবন্ধন সনদের মাধ্যমে ভ্যাকসিন নিবন্ধন করতে পারবেন Mustafa Osman Turan termed icddr,b’s life-saving research as inspiring আগামীকাল ‘শুভ জন্মদিন আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ওজোপাডিকোর নতুন এমডি`র শ্রদ্ধা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ১১ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ করোনকালে পর্যটন খাতের জন্য ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছে সরকার : পর্যটন প্রতিমন্ত্রী পর্যটন মানুষকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে সচেতন করে : মনিরুজ্জামান তালুকদার বিদেশ থেকে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের অসহায় অবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন : বিলস্’র গবেষণা Samsung brings NEO QLED TV for stunning cinematic experience Energypac cleans up river on the occasion of  “World Rivers Day” Is the top 1 smartphone brand getting ignored – Which brand is that? সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে গণমাধ্যম মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে : তথ্য ও সম্প্রচার সচিব ২০৪১ সালের মধ্যে এক হাজার গ্রামকে স্মার্টফার্মিংয়ের আওতায় আনা হবে : আইসিটি প্রতিমন্ত্রী বিএনপি যাদের নিয়ে ঐক্য করে তাদের মধ্যেই প্রচন্ড অনৈক্য : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী
Treanding
British State Minister for Foreign Affairs calls on Foreign Minister Momen Mustafa Osman Turan termed icddr,b’s life-saving research as inspiring আগামীকাল ‘শুভ জন্মদিন আধুনিক বাংলাদেশের রুপকার জননেত্রী শেখ হাসিনা’ অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ বেতার বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে ওজোপাডিকোর নতুন এমডি`র শ্রদ্ধা ইলিশ আহরণ নিষিদ্ধকালে জেলেদের জন্য ১১ হাজার ১১৯ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ পর্যটন মানুষকে ইতিহাস-ঐতিহ্যের বিষয়ে সচেতন করে : মনিরুজ্জামান তালুকদার বিদেশ থেকে ফিরে আসা নারী শ্রমিকদের অসহায় অবস্থা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন : বিলস্’র গবেষণা Samsung brings NEO QLED TV for stunning cinematic experience Energypac cleans up river on the occasion of  “World Rivers Day” Is the top 1 smartphone brand getting ignored – Which brand is that?  রোয়াংছড়িতে গৃহহীনদের নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী করোনা মহামারি মোকাবিলায় সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে : সমাজকল্যাণ সচিব বিদেশে অপপ্রচারকারীর বিরুদ্ধে অনলাইনে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানালেন শিক্ষা উপমন্ত্রী   ই-কমার্স বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ : বাণিজ্যমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু’র খুনী নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি তথ্য প্রতিমন্ত্রীর আগামীকাল আরো ২৫ লাখ ডোজ ফাইজার ভ্যাকসিন দেশে আসছে সোনারগাঁও জাদুঘর সম্প্রসারণ প্রকল্পের নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন Prime Minister’s Message on the occasion of the World Tourism Day-2021 President’s Message on the occasion of the World Tourism Day-2021 প্রাকৃতিক পর্যটনে অপার সম্ভাবনা বাংলাদেশের

বাংলা মাসে বার ভ্রমণ : মোখলেছুর রহমান

Bangladesh Beyond
  • Updated on Thursday, August 26, 2021
  • 132 Impressed
বাংলা মাসে বার ভ্রমণ : মোখলেছুর রহমান
ঢাকা, ২৫ আগস্ট ২০২১ :
২৩ আগস্ট ২০২১ বাংলাদেশের প্রথম পর্যটন গ্রাম চারিপাড়া গুরুবাস পর্যটনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু ।
২৩ আগস্ট ২০২১ তারিখে বাংলাদেশের প্রথম পর্যটন গ্রাম চারিপাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে প্যাকেজ ট্যুর অপারেশনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছে। গ্রামটি টেকসই জীবনমুখী উন্নয়ন, বাস্তু সংরক্ষণ ও সামাজিক স্থিতি ধারণের উদ্দেশ্যে গুরুবাস দর্শনকে পযটনের বিষয়বস্তু হিসেবে ধার্য করেছে।
উল্লেখ্য, পর্যটন গ্রাম চারিপাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বারবাড়ীয়া ইউনিয়নে অবস্থিত। এই পর্যটন গ্রামের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে বারবাড়ীয়া পর্যটন শিল্প সমবায় সমিতি লিমিটেড।
গুরুবাস পর্যটনের শুভসূচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমবায় কার্যালয় ময়মনসিংহের যুগ্ম-নিবন্ধক মশিউর রহমান, বিশেষ অতিথি ট্যুরিস্ট পুলিশ ময়মনসিংহ রিজিওনের পুলিশ সুপার নাঈমুল হাছান ও আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, মুক্তগাছার প্রিন্সিপাল অবদুল ওয়াহেদ।
আরো উল্লেখ্য যে, শতাধিক দেশ ভ্রমণ করে অবশেষে চারিপাড়া ভ্রমণে এসেছেন ইসহাক শিকদার।
ভাদ্রের পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ছিল আমাদের নারীদের শিল্পকলা প্রকাশের প্রাচীন মাধ্যম হিসেবে পিঠা, স্থানীয় খাদ্যোপাদানে আপ্যায়ন, ব্রহ্মপুত্র নদে জোৎসনায় নৌভ্রমণ, স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় পালাগান ও গুরুদর্শন।
সংস্কৃতি হলো সেই জটিল সামগ্রিকতা যাতে অন্তর্গত আছে জ্ঞান, বিশ্বাস, নৈতিকতা, শিল্প, আইন, আচার ও সমাজের মানুষ দ্বারা অর্জিত অন্য কোনো সম্ভাব্য সামর্থ্য ও অভ্যাস। তাই সংস্কৃতিতে নৃবিজ্ঞানের প্রত্যক্ষ প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
বিবেচনা করা হয় যে, ঘটমান সকল বিষয় সামাজিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের সমাজে প্রবাহিত হয়। সংস্কৃতি মানবজীবনের সর্বজনীন উপাদান, বিধায় সকল সমাজে এর অবস্থান প্রতীয়মান হয়। শিল্প, সঙ্গীত, নৃত্য, ধর্ম, প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, রান্না, ঘরবাড়ি, পোষাক ইত্যাদি জাতীয় সংস্কৃতির উপাদানের প্রভাব অত্যন্ত প্রকট। আমাদের এই ভূখণ্ডে ইতিহাস, ঐতিহ্য, ধর্ম, উৎসব, আচার, রীতি, প্রথা ইত্যাদি সাংস্কৃতিক উপাদান দিয়ে গড়ে উঠা জীবন দর্শনে পরিপূর্ণ। তাই পর্যটনের প্রচুর ও সমৃদ্ধ উপাদান রয়েছে আমাদের সংস্কৃতি ও জীবনধারায়।
আদি থেকে আধুনিক সময়ে জীবনধারা পাল্টানোর সাথে সাথে পাল্টেছে সাস্কৃতিক উপাদানও। তবে এর মৌলিক উপাদানগুলিকে দিয়ে বাংলা সাল মেনে ও হাল আমলের আন্তর্জাতিক বিষয়াদির সমন্বয়ে তৈরি করা হলো বার মাসে বার ট্যুর। পর্যটন গ্রাম চারিপাড়া পর্যটনের মাধ্যমে এইসব দৃশ্যমান ও অদৃশ্য সংস্কৃতিকে বুকে ধারণ করবে। নিচের এদের একটি বিবরণ তুলে ধরা হলো:
১ বৈশাখ: বাংলা নববর্ষ (১৪ এপ্রিল)
পহেলা বৈশাখ বাংলা সনের প্রথম দিন। এ দিনটি বাংলাদেশে নববর্ষ হিসেবে পালিত হয়। এটি বাঙালির একটি সর্বজনীন লোকউৎসব। কল্যাণ ও নতুন জীবনের প্রতীক হলো নববর্ষ। অতীতের ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতার গ্লানি ভুলে নতুন করে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় উদ্যাপিত হয় এই দিনটি।
এক সময় নববর্ষ পালিত হতো আর্তব উৎসব বা ঋতুধর্মী উৎসব হিসেবে। তখন এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল কৃষির, কারণ কৃষিকাজ ছিল ঋতুনির্ভর। তাই কৃষিকাজের সুবিধার্থেই মুগল সম্রাট আকবর ১৫৮৪ খ্রিস্টাব্দের ১০/১১ মার্চ বাংলা সন প্রবর্তন করেন এবং তা কার্যকর হয় তাঁর সিংহাসনে আরোহণের সময় থেকে অর্থাৎ ৫ নভেম্বর ১৫৫৬ থেকে। হিজরি চান্দ্রসন ও বাংলা সৌরসনকে ভিত্তি করে বাংলা সন প্রবর্তিত হয়। নতুন সনটি প্রথমে ‘ফসলি সন’ নামে পরিচিত ছিল, পরে তা বঙ্গাব্দ নামে পরিচিত হয়।
২৫ জ্যৈষ্ঠ: জামাই ষষ্ঠী (৮ জুন)
মিষ্টির হাঁড়ি হাতে ফিনফিনে সাদা পাঞ্জাবি পড়ে শ্বশুরঘর আলো করেন জামাই। পঞ্চব্যঞ্জনে সাজনো জামাইয়ের পাত। আম-কাঁঠাল, ইলিশের পেটি ও মাংস সহযোগে জামাইকে ভুরিভোজ করানো বাঙালির জামাইষষ্ঠী। শ্বশুড় বাড়ি থেকে জামাইকে যথাযথ সম্মান সহকারে, উপঢৌকন পাঠিয়ে শ্বশুরবাড়ী আসার জন্য নিমন্ত্রণ করা হয়।
জামাইবাবাজীকে খুশি রাখতে কতই না উপায় খুঁজেন বাঙালি মায়েরা। বছরের একটি দিন, জৈষ্ঠ্যের মাঝামাঝি, যখন আম-কাঁঠালের পাকা গন্ধে চারদিক সুবাসিত, তখনই এই আয়োজনটি করা হয়। শ্বশুরবাড়ীতে ‘জামাই আদরের’ ঘটা পড়ে যায়। জামাই ষষ্ঠী এমনই এক আচার, যা শাশুড়ী কন্যা-জামাইয়ের দীর্ঘায়ু, যশ, অর্থ-বিত্ত কামনা করেন। আর কোল ভরে সুস্থ সন্তান কামনা করেন।
১ আষাঢ়: বর্ষাবরণ ও ফল উৎসব (১৫ জুন)
বর্ষা উৎসব, বর্ষা বরণ বা বর্ষা মঙ্গল উৎসব ইত্যাদি বহু নামে ডাকা হলেও বাংলাদেশে বর্ষাকালকে বরণ কওে নেওয়ার দিনব্যাপী আয়োজন বহুকাল থেকেই পালিত হয়ে আসছে। বাংলা বর্ষপঞ্জির আষাঢের প্রথম দিন বর্ষা উৎসব পালিত হয়। দিনটি গান, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, পুতুলনাচ, ইলিশ উৎসব প্রভৃতি আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপিত হয়। এই দিনে সাধারণত রমনীরা ঐতিহ্যবাহী নীল শাড়ি পরিধান করেন।
বর্ষায় চারপাশ মুখরিত থাকে কদম, কামিনী, বেলি ও বকুলের সুবাসে। বর্ষায় ফোটা ফুলগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- কদম, বকুল, দোলনচাঁপা, সুখদর্শন, ঘাসফুল, শাপলা, সন্ধ্যামালতি, কামিনী, দোপাটি প্রভৃতি।
৯ শ্রাবণ: গুরুপূর্ণিমা (২৪ জুলাই)
প্রাচীন সমাজে অত্যন্ত গুরুত্ব পেত গুরু-শিষ্য সম্পর্ক। সেই কারণে একটা দিন গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে নিবেদন করত শিষ্যরা। সংস্কৃতে ‘গু’ শব্দের অর্থ অন্ধকার। ‘রু’ শব্দের অর্থ অন্ধকার দূরীকরণ। গুরু শব্দের অর্থ, যিনি শিষ্যদের অন্ধকার বা অজ্ঞতা থেকে আলোর দিশা দেখান সেই ব্যক্তি। তিনিই আমাদের সৃষ্টি, স্থিতি, লয়ের পরম জ্ঞান দান করেন।
প্রাচীন আর্য সমাজে শিক্ষক ও গুরুর স্থান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাই গুরু প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য সেই বৈদিক যুগ থেকে আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিকেই গুরুপূর্ণিমা হিসেবে পালন করা হয়। এদিন সকল শিষ্য ও শিক্ষার্থীরা তাদেও গুরু বা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। কেননা, একজন গুরুই পারেন সুশিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে জীবনের সকল অন্ধকার দূর করে করে উৎকৃষ্ট মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আবার গুরুই সৃষ্টিকর্তার পথ দেখিয়ে থাকেন। তাই গুরু পূর্ণিমার দিনটি সকল শিক্ষকদের নিবেদিত।
১৫ ভাদ্র: ভাদ্রের পূর্ণিমা বা মধুপূর্ণিমা (২৩ আগস্ট)
বাংলা ১২ মাসে ১২টি পূর্ণিমা রয়েছে। এর মধ্যে ভাদ্রের পূর্ণিমা উজ্জ্বলতম। এই রাতে আকাশ ও প্রকৃতি এতটাই পরিস্কার থাকে যে, সমস্ত প্রকৃতিকে আত্মা দিয়ে উপলব্ধি করা যায়। প্রবাদ আছে যে, ভাদ্রের পূর্ণিমায় নদীর তলা দেখা যায়। মধুপূর্ণিমা নামে একে বৌদ্ধরা ধর্মীয় উৎসব হিসেবে উদযাপন করে। মধুপূর্ণিমার শিক্ষা হলো দান, সেবা ও একতাবদ্ধ সমাজ জীবন। ঐক্য প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক সহিষ্ণুতার প্রয়োজন। তাই সর্বদা মৈত্রী ও ত্যাগের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে পারস্পরিক কল্যাণবোধের মানসিকতা নিয়ে জীবন অতিবাহিত করা উচিত। এতে সকলের কল্যাণ সাধিত হয়।
১২ আশ্বিন: বিশ্ব পর্যটন দিবস (২৭ সেপ্টেম্বর)
বিশ্ব পর্যটন দিবস ২৭ সেপ্টেম্বর তারিখে সারা বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে থাকে। জাতিসংঘের অধীনস্থ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সাল থেকে সকল সদস্য দেশে দিবসটি গুরুত্বের সাথে পালিত হয়। দিবসটির প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে পর্যটনের একটি সেতুবন্ধন গড়ে তোলা। এছাড়াও, পর্যটনের ভূমিকা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উপযোগিতাকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া।
১৫ কার্ত্তিক: রাস পূর্ণিমা (৩০ অক্টোবর)
রাস পূর্ণিমা রাসলীলা শব্দটি এসেছে সংষ্কৃত হতে “রাস” থেকে। রাস শব্দটি মানে, অনুভূতি আর লীলা মানে দৈবিক কার্য (Devine Act), এখানে Act বলতে বিশেষ প্রকারের নৃত্য এর কথা বলা হয়েছে। সুতরাং রাসলীলা বলতে এক প্রকার বিশেষ নৃত্য বুঝায়। রাসলীলা তিন যোগের সমন্বয়ে গঠিত: জ্ঞানযোগ, কর্মযোগ ও ভক্তিযোগ।
১ অগ্রহায়ণ: নবান্ন (১৫ নভেম্বর)
নবান্ন উৎসব একটি প্রাচীন প্রথা। এপার বাংলা ও ওপার বাংলার ঐতিহ্যবাহী শস্যোৎসব নবান্ন পালিত হয় অগ্রহায়ন মাসেই। বাংলার কৃষি সমাজে শস্য উৎপাদনের বিভিন্ন পর্যায়ে যে সকল আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব পালিত হয়, নবান্ন তার মধ্যে অন্যতম। নবান্ন শব্দের অর্থ “নতুন অন্ন”। নবান্ন উৎসব হল নতুন আমন ধান কাটার পর সেই ধান থেকে প্রস্তুত চালের প্রথম রান্না উপলক্ষে আয়োজিত উৎসব। সাধারণত অগ্রহায়ণ মাসে আমন ধান পাকার পর এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
নবান্ন অনুষ্ঠানে নতুন গুড় সহ নতুন অন্ন নতুন চালের তৈরি খাবার বানিয়ে প্রতিবেশী ও আত্মীয়দেরকে নবান্নের অঙ্গ একটি বিশেষ লৌকিক প্রথা। এই উৎসবে নতুন ধানের চাল দিয়ে তৈরি করা হয় পিঠা পায়েস, ক্ষীরসহ নানা রকম খাবার। সুস্বাদু খাবারের গন্ধে ভরে ওঠে চারপাশ।
এই উৎসব উপলক্ষ্যে ঘরে ঘরে তৈরি হয় নতুন চালের পিঠা, ক্ষীর-পায়েসসহ নানা উপাদান। হেমন্ত নতুন ফসল ঘরে তোলার সময় এই উৎসব পালন করা হয়। হাজার বছরের পুরনো এই উৎসবটি যুগ যুগ ধরে একইভাবে পালন হয়ে আসছে। নবান্ন উৎসবে গ্রামগঞ্জে আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলার।
১১ পৌষ: পৌষ সংক্রান্তিতে ঘুড়ি উৎসব (২৫ ডিসেম্বর)
বাউনি পৌষ সংক্রান্তি বা মকর সংক্রান্তি বাঙালি সংস্কৃতিতে একটি বিশেষ উৎসবের দিন। বাংলা পৌষ মাসের শেষের দিন এই উৎসব পালন করা হয়। এই দিন নানা ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। তার মধ্যে পিঠা খাওয়া, ঘুড়ি উড়ানো অন্যতম। ঘুড়ি উৎসব বাংলাদেশের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী একটি উৎসব। মুঘল আমল থেকে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। সারাদিন ঘুড়ি উড়ানোব পরে সন্ধ্যার পটকা ফুটিয়ে ফানুস উড়িয়ে উৎসবের সমাপ্তি করে। বাউল গান এই মেলার অন্যতম আকর্ষণ।
বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি সাকরাইন নামে পরিচিত। আমাদের মতো উষ্ণ অঞ্চলে ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামপ্রদ সময় শীতকাল। এখানে বিভিন্ন ধরনের খাবার এবং অন্যান্য উপহার ছাড়াও পৌষমেলার মাধ্যমে পৌষসংক্রান্তি উদযাপিত হয়। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ করে বাউল গানের আসর বসে।
‘মকরসংক্রান্তি’ শব্দটি দিয়ে নিজ কক্ষপথ থেকে সূর্যের মকর রাশিতে প্রবেশকে বোঝানো হয়ে থাকে। জ্যোতিষ শাস্ত্র অনুযায়ী ‘সংক্রান্তি’ একটি সংস্কৃত শব্দ, এর দ্বারা সূর্যের এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে প্রবেশ করাকে বোঝানো হয়ে থাকে। ১২টি রাশি অনুযায়ী এরকম সর্বমোট ১২টি সংক্রান্তি রয়েছে।
১৫ মাঘ: মাঘী পূর্ণিমা (২৮ জানুয়ারি)
মাঘী পূর্ণিমাএই দিনটি হিন্দু ধর্মে পুণ্যস্নানের জন্য বিখ্যাত। অনেকেই প্রয়াগ, কাশী, গঙ্গা বা নিকটবর্তী জলাশয়ে স্নান করে তর্পণ করেন। এই দিনটি তীর্থভ্রমণের পক্ষেও প্রশস্ত। মাঘ মাসের এই পূর্ণিমা তিথির সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেবী কালী, ভগবান বিষ্ণু ও গৌতম বুদ্ধের নাম। হিন্দু এবং বৌদ্ধ- উভয় সম্প্রদায়ের কাছেই এই দিনটির মাহাত্ম্য অপরিসীম। বলা হয়, এই পুণ্যলগ্নেই গৌতম বুদ্ধ তাঁর মহাপরিনির্বাণ অর্থাৎ দেহত্যাগের কথা ঘোষণা করেছিলেন। যা উচ্চারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব আলোড়িত হয়, দেখা দেয় ভূমিকম্প। শিষ্যেরা ভয় পেয়ে গেলে বুদ্ধ তাঁদের আত্মোন্নতির মার্গে এবং ধর্মপথে অবিচল থাকার উপদেশ দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা এই দিনে বিহারে দীপদান এবং সঙ্ঘে অন্নদান করেন।
৮ ফাল্গুন: আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস (২১ ফেব্রুয়ারি)
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস একুশে ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশসহ পশ্চিমবঙ্গ তথা সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন। এটি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবেও সুপরিচিত। বাঙালি জনগণের ভাষা আন্দোলনের বেদনাময় ও গৌরবোজ্জ্বল স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ১৯৫২ সালের এই দিনে (৮ ফাল্গুন, ১৩৫৮, বৃহস্পতিবার) বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর পুলিশের গুলিবর্ষণে কয়েকজন তরুণ শহীদ হন। তাদের মধ্যে অন্যতম হলো রফিক, জব্বার, শফিউল, সালাম, বরকত সহ অনেকেই। তাই এ দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ২০১০ খ্রিস্টাব্দে জাতিসংঘ কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক হ্রতিবছর একুশে ফেব্রæয়ারি বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন করা হয়।
৩০ চৈত্র: চৈত্র সংক্রান্তি (১৩ এপ্রিল)
‘সংক্রান্তি’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হলো সূর্য বা গ্রহাদির এক রাশি থেকে অন্য রাশিতে গমন, সঞ্চার ও ব্যাপ্তি। সাধারণত বঙ্গাব্দের দিনপঞ্জি বিবেচনায় মাস গণনার শেষ দিনটিকে সংক্রান্তি বলা হয়ে থাকে। তাই চৈত্র মাসের শেষ দিনটি হলো চৈত্র সংক্রান্তি। বাংলা মাস গণনায় চৈত্র মাস বছরের শেষ মাস হওয়ায় চৈত্র সংক্রান্তির গুরুত্ব অনেকটাই বেশি। যেমন, চৈত্র সংক্রান্তি হলো চৈত্র মাসের শেষ দিন। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনে সারা পৃথিবী নতুন সাজে নিজেকে সাজিয়ে নেয়। গাছে গাছে নতুন পাতা, ফুল ফোটে আর কোকিল গান গেয়ে ওঠে। এর অব্যবহিত পরেই ফাল্গুনের প্রথম সপ্তাহ থেকেই প্রকৃতি রুক্ষভাব ধারণ করে, শুরু হয় খরতাপ। মানুষ মনে মনে বসন্ত বিদায় ও গ্রীষ্মকে গ্রহণের জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকে। তাই চৈত্র সংক্রান্তি বছরের শেষ উৎসব। এর পরের দিনই নতুন বছরের প্রথম দিন। বৈশাখের প্রথম দিনে সকলকে শুভেচ্ছা জানানো হয় নতুন বছরের যেখানে সকলের মঙ্গল কামনাই মূল উদ্দেশ্য।

Social

More News