[Valid RSS]
September 24, 2022, 7:40 pm
Treanding
GIZ Bangladesh’s training held on SDG localisation in Khulna ছোটদের সহজ প্রোগ্রামিং শিক্ষায় প্রকাশিত হল বাংলা স্ক্র্যাচ বই Ditching Russian gas no way to reach climate goals : Putin চট্টগ্রামে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রচারনা কর্মসূচি সমাপ্ত Samsung brings month-long smartphone campaign On September 6–7, Vladimir Putin will make working trip to Vladivostok Two Russian embassy workers killed in ‘suicide bombing’ Shocked & devastated by the horrific attacks : Justin Trudeau  SSC, equivalent exams begin Sept 15: Dipu Moni Ten killed in Canadian stabbing spree Russia wants UN to pressure US : media Daraz Bangladesh Anniversary Campaign – Now LIVE! realme offers upto BDT 3400 off on occasion of Daraz’s 8th anniversary General Pharmaceuticals employees will receive insurance from MetLife চট্টগ্রামের কলেজিয়েট স্কুলে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ে প্রচারনা কর্মসূচি শুরু Bangladesh a secular country, immediate action is taken whenever minorities are attacked: PM  Two more mortar shells from Myanmar land in Bangladesh OPPO launches killer device A57 in 15-20K price range ShareTrip and Grameenphone join hands to offer exciting travel privileges ড্যাপ ২০২২-২০৩৫ এর পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের দাবী বিআইপির

১৪ আগস্ট এক নজরে বাংলাদেশ

Bangladesh Beyond
  • Updated on Sunday, August 14, 2022
  • 95 Impressed

১৪ আগস্ট এক নজরে বাংলাদেশ

 

খুনি চক্র জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানকে হত্যা করে জাতির কপালে কালিমা লেপন করেছে :  শ্রম প্রতিমন্ত্রী

খুলনা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :

          শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান বলেছেন, স্বাধীনতা বিরোধীদের দোসর, সামাজ্যবাদী শক্তি, খুনি চক্র বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করে বাঙালি জাতির কপালে কালিমা লেপন করেছে।

          প্রতিমন্ত্রী আজ খুলনা মহানগরীর খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত জাতির পিতার ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে শোক সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক।

          প্রতিমন্ত্রী বলেন, আজকে শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করে রূপকল্প- ২০৪১ বাস্তবায়ন করে উন্নত সমৃদ্ধ এবং জাতির পিতার সোনার বাংলা এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একুশশ’ সালের মধ্যে ডেলটা প্ল্যান বাস্তবায়নে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

          খুলনা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ শফিউল্লাহ এর সভাপতিত্বে খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি এ বাবুল রানা, সহ-সভাপতি শেখ শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুল ইসলাম এবং ১৫ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম মুন্না বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন থেকে দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ১৫ জন শ্রমিকে সাড়ে ৭ লাখ টাকা চিকিৎসা সহায়তার চেক প্রদান করেন।

          এর আগে প্রতিমন্ত্রী খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬তলা বিশিষ্ট নতুন ভবনের উদ্বোধন করেন। ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর।

 

অর্থনীতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য সরকার কঠিন ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে :  শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :

          সাম্প্রতিক সময়ে তেলের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, অর্থনীতি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সে জন্য সরকার কঠিন ও সাহসী উদ্যোগ নিয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বৈশ্বিক মহামারি এবং রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর অনেক দেশে যখন লঙ্গরখানা খোলা হচ্ছে,  যুক্তরাজ্যের এক তৃতীয়াংশ মানুষ দরিদ্র হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে সেই প্রেক্ষিতে সরকার এই সাহসী  সিদ্ধান্ত  নিয়েছে। তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং বিদ্যুৎ  নিয়ে যারা আন্দোলন করছে তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এক মেগাওয়াট বিদ্যুৎও উৎপাদন  করতে পারেনি।

          মন্ত্রী আজ জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের আয়োজনে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘অশ্রুঝরা আগস্টে শোকসঞ্জাত শক্তির অন্বেষা’ শীর্ষক সেমিনার প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

          বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সেমিনারে  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নর্থ-সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আতিকুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর, সর্ব ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি এম নজরুল ইসলাম,  বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সহ-সভাপতি অধ্যাপক ড. রাশিদ আসকারী প্রমুখ।

           সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলামিস্ট ও সিনিয়র সাংবাদিক বিভু রঞ্জন সরকার, স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ প্রগতিশীল কলামিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মিল্টন বিশ্বাস।

          মন্ত্রী বলেন, মূলত বঙ্গবন্ধুর আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয়তায়  বিশ্ব মোড়লরা থ্রেট ফিল করেছিল এবং মুজিবকে ভয় থেকে মুজিবের বংশকে ভয়। তাই বিশ্ব মোড়ল ও তাদের এ দেশীয় দালালরা তাঁকে নির্বংশ করার জন্য তাঁকে সপরিবারে হত্যা করেছিল।

          বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর জয় বাংলাকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। ৭ মার্চের ভাষণ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। বাঙালি  জাতীয়তাবাদকে নিষিদ্ধ করে বাংলাদেশি  জাতীয়তাবাদ চালু করা হয়েছিল। পাকিস্তানের আদলে বাংলাদেশ জিন্দাবাদ চালু করেছিল। শেখ রাসেল ছাড়া  বঙ্গবন্ধু পরিবারের  প্রত্যেকটি মানুষের চরিত্রে কালিমা লেপন করেছিল। শিক্ষামন্ত্রী  বলেন, ঘাতকদের ভয়  অমূলক ছিল না। শেখ হাসিনাই তার প্রমাণ। গত ৪৭ বছর ধরে শেখ হাসিনাকে ২১ বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। শেখ হাসিনা পিতার মতোই যা বলেন তা করেন। 

          মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে আমরা শোককে শক্তিতে রূপান্তর করেছি। সেখান থেকে জাগরণ হয়েছে। সে জাগরণের ফলে বাংলাদেশ আজ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

 

 

‍বঙ্গবন্ধু পরিকল্পিতভাবে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন : ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট):

 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর সঠিক দিকনির্দেশনা থাকায় অল্প সময়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে এ দেশকে স্বাধীন করা সম্ভব হয়েছে। স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশের পুনর্গঠন করে বঙ্গবন্ধু পরিকল্পিতভাবে দেশকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ’৭৫এর ১৫ আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সে উন্নয়ন যাত্রাকে নস্যাৎ করে দেয় ঘাতকেরা।

প্রতিমন্ত্রী আজ সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী এবং জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ কামরুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়ের সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন ।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপকতা দেখে স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনকালীন দুর্যোগ ঝুঁকি-হ্রাসে উপকূলীয় বনায়ন, বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) চালু করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু করেন। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা হতে মানুষের জানমাল রক্ষার্থে মাটির কিল্লা নির্মাণ করা হয়, যা সর্বসাধারণের কাছে মুজিব কিল্লা নামে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে অগ্রসর হয়েই বাংলাদেশ আজ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

১৫ই আগস্টের শোককে শক্তিতে পরিণত করে এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ধারণ করে বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী।

পরে পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টে বঙ্গবন্ধুসহ নিহতদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

সারের মজুত পর্যাপ্ত, বেশি দামে বিক্রি করলে কঠোর ব্যবস্থা : কৃষিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট):

 

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বর্তমানে দেশে চাহিদার বিপরীতে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপিসহ সব ধরনের সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। দেশের কোথাও যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে- সে ব্যাপারে আমরা নিবিড়ভাবে মনিটর করছি। ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করলে সংশ্লিষ্টদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনা হবে।

 

আজ সচিবালয়ে নিজ অফিস কক্ষে সাংবাদিকদের সাথে সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে মতবিনিময়কালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সারে কোনো রকম প্রভাব পড়বে না। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে না, তবে কৃষিপণ্যের দাম কিছুটা বাড়বে।

 

‘মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে’ জানিয়ে সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আড়াই বছর ধরে চলমান কোভিড পরিস্থিতি এবং ইউক্রেন-রাশিয়া মধ্যে চলমান যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা সংকটের কারণে খাদ্যপণ্যের দাম, সারের দাম, তেলের দাম ও গ্যাসের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশেও এর প্রভাব পড়েছে। এর ফলে মানুষের কিছুটা কষ্ট হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকার সচেতন। মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকার নিবিড়ভাবে ও আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।

 

স্বল্প আয়ের, সীমিত আয়ের ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘবে ১৫ টাকা কেজিতে ৫০ লাখ পরিবারকে চাল দেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

 

সার-খাদ্যশস্যের দাম কমার আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, সার রপ্তানির ক্ষেত্রে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যদিকে, ইউক্রেন থেকে শস্য রপ্তানি উন্মুক্ত হয়েছে। ইউক্রেন থেকে গম রপ্তানি শুরু হলে আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম কমতে পারে। এসবের প্রভাব দেশেও পড়বে, খাদ্যপণ্যের দাম কমবে।

 

বর্তমান সরকার মানবাধিকারকে সবসময় সমুন্নত রাখবে : আইনমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তার কারণ বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের একজন ভিকটিম তিনি। সেজন্য শেখ হাসিনার সরকার মানবাধিকারকে সবসময় সমুন্নত রাখবে এবং আইন দ্বারা মানবাধিকার লঙ্ঘন বন্ধ করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবে।

আজ রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার Michelle Bachelet এর সাথে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করার সময় মন্ত্রী একথা বলেন। এসময় লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোঃ মইনুল কবির এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মোঃ গোলাম সারওয়ার তাঁর সাথে ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পার্সনেলদেরকে মানবাধিকার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যাপারে মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব পাঠালে সরকার অবশ্যই সেটা বিবেচনা করবে বলে তিনি হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেছেন।

আনিসুল হক আরো বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে তিনি দেশের সাংবাদিকদের যে কথাগুলো জানিয়েছিলেন, সেকথাগুলো মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারকেও জানিয়েছেন। এই আইন নিয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিবকে সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইসিটি বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিরা আছেন। প্রতিনিধিরা জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার অফিসের সাথে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ‘বেস্ট প্রাকটিসগুলো’ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছেন।

 

শ্রম আদালতের মামলাসমূহ শ্রেণি বিন্যাস করে দ্রূত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত

 

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট):

শ্রম আদালতের জমে থাকা মামলাসমূহ শ্রেণি বিন্যাস করে দ্রুত নিষ্পত্তিকরণে ১০ শ্রম আদালতের বিচারকগণের অংশগ্রহণে শ্রম মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সময়োপযোগী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে গতকাল। 

 

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে ‘এস্টাবলিশ পাইলট প্রসেস টু ক্লাসিফাই কেসেস ইন কনসালটেশন উইথ দ্য জাজেস অভ্ দ্য লেবার কোর্টস উইথ আ ভিউ টু এড্রেসিং কেস ব্যাকলগস’ শিরোনামে প্রথমবারের মতো এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

 

কর্মশালায় প্রধান অতিথি আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। শ্রম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. সেলিনা আকতারের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের এটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মোঃ মাইনুল কবির, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব মো. গোলাম সারওয়ার এবং আইএলও এর কান্ট্রি ডিরেক্টর টুমো পোটিআইনেন বক্তৃতা করেন। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মোঃ ফারুক। 

 

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বিচারকগণের উদ্দেশ্যে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরুপায় হয়েই শ্রমিকরা শ্রম আদালতে মামলা করেন। অসহায় এ সকল শ্রমিকদের মামলা ফেলে রাখবেন না। শ্রমিকদের করা পাওনা আদায়ের মামলা দিনের পর দিন ডেট পড়লে শ্রমিকরা পেটের তাগিদে মামলার পিছনে আর হাঁটে না, ফলে শ্রমিকরা তার পাওনা বঞ্চিত হয়। ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তখন ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না। 

 

প্রতিমন্ত্রী বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রম আইন বিশেষ ধরনের আইন, শ্রম আদালতের মামলা বিচার করতে গেলে শ্রম আইনের ওপর ভালো দখল রাখতে হবে। মামলার দীর্ঘসূত্রিতায় ন্যায়বিচারের অন্তরায়। জাতির পিতা সমাজে সাম্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সমাজে সাম্যতা প্রতিষ্ঠায় কোন বিকল্প নেই। মামলার শ্রেণি বিন্যাস করে যে সকল মামলার তারিখ দেয়ার প্রয়োজন নেই সে সকল মামলা এক শুনানিতেই নিষ্পত্তি করে দেবেন। তিনি অসহায় শ্রমিকরা শ্রম আদালতে দ্রুত রায় পেলে শোভন কর্মপরিবেশ  নিশ্চিতকরণ সহজ হবে।

 

কর্মশালায় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনাল এবং সারা দেশের ১০ শ্রম আদালতে ২৪ হাজার ৯০৯টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে এর মধ্যে ঢাকার তিনটি আদালতেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে ২১ হাজার ২০৯টি বলে কর্মশালায় জানানো হয়। 

 

বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্য কমার সাথে সাথে বাংলাদেশে সমন্বয় করা হবে : জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের মূল্য কমার সাথে সাথে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় করা হবে। জ্বালানির মূল্যের উর্ধ্বগতি বৈশ্বিক। বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ সফলভাবেই মোকাবিলা করছে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা আরো ভালো করবো। 

প্রতিমন্ত্রী আজ বিদ্যুৎ ভবনে এফইআরবি আয়োজিত জ্বালানি খাতে বঙ্গবন্ধুর অবদান স্মরণ করতে ‘Energy Security in Bangladesh: Volatile International Market’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর জ্বালানি নীতি আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার মূলভিত্তি। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের লক্ষ্যে টু-ডি এবং থ্রি-ডি সাইসমিক জরিপ কাজ চলমান আছে। ২০০৯-এ শেখ হাসিনার সরকার দায়িত্ব নেবার সময় গ্যাস উত্তোলনের জন্য আমাদের ১টিও সচল রিগ ছিল না, সেখানে এখন ৪টি নতুন রিগ যুক্ত হয়েছে। সাথে পুরানো ১টি রিগ পুনর্বাসন করা হয়েছে। গত জুনে আমরা বিজয়-১২ রিগের মাধ্যমে শ্রীকাইল নর্থ ১-এ কূপ খনন শুরু করেছি এবং গত মে মাসে বাপেক্স সফল ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে কৈলাশটিলা-৭নং কূপ থেকে দৈনিক ১৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু করেছে এবং এই প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ২০০৯ সালের শুরুতে কয়লা উত্তোলন হতো ৬ দশমিক ৯৬ লাখ মেট্রিক টন, ২০২২ সালে সেটা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩০ দশমিক ২৮ লাখ মেট্রিক টন। শূন্য দশমিক ৬৯ লাখ মেট্রিক টন গ্রানাইট পাথরের জায়গায় এখন উত্তোলন করা হচ্ছে ৭৮ দশমিক ৭০ লাখ মেট্রিক টন। মাতারবাড়ীতে নির্মাণ করা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ল্যান্ড বেইজড এলএনজি টার্মিনাল এবং সমগ্র জ্বালানি খাতকে ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে ERP। ভোলার গ্যাস মূল ভূখন্ডে আনার কার্যক্রম পরিকল্পনাধীন রয়েছে। অর্থনীতির আকার বড় হচ্ছে। গ্যাস, বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে, চাহিদা ও জোগানের গ্যাপ বাড়লেও তা পূরণ করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। যে সাবধানতা নেয়া হয়েছে তা সাময়িক। বিশ্ব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একটু ধৈর্য্য ধরেন, জ্বালানি তেলের মূল্য কমলে বাংলাদেশেও তেলের মূল্য সমন্বয় করা হবে। আগামী মাসের শেষের দিকে দেশে বিদ্যুতের সমস্যাও সমাধান হবে। এ সময় তিনি বৈশ্বিক এই পরিস্থিতি সকলকে একত্রে থেকে সমস্যা সমাধান করার আহ্বান জানান। 

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এনার্জি এন্ড পাওয়ার ম্যাগাজিনের সম্পাদক মোল্লা আমজাদ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় ছিলেন এফইআরবি’র নির্বাহী পরিচালক রিসান নসরুল্লাহ। 

এফইআরবি’র চেয়ারম্যান মোঃ শামীম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মাঝে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান নাজমুল আহসান, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ভূতত্ববিদ অধ্যাপক বদরুল ইমাম, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক মোঃ শামসুল আলম ও বিজ-এর অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বক্তব্য রাখেন। 

 

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন : শিল্পমন্ত্রী

                                                      

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট):

 

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন বলেছেন, শিল্প উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে টেকসই ও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭৩ সালের ৭ জানুয়ারি ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বৃহৎ শিল্পের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইনভেস্টমেন্ট পলিসি, ১৯৭৩ প্রণীত হয়। এটিই মূলত এদেশের শিল্প উন্নয়নের প্রথম পরিকল্পনা দলিল। বঙ্গবন্ধুর নেওয়া উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় সরকারি ও বেসরকারি খাতে দক্ষতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে একটি শিল্পসমৃদ্ধ উন্নত দেশ বিনির্মাণে শিল্প মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘সমতাভিত্তিক অর্থনীতি’ তৈরি করার উদ্দেশ্যে নারী উন্নয়ন, যুবসমাজের উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উন্নয়নসহ গ্রাম উন্নয়নের মাধ্যমে এ দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য নানামুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেন।

 

জাতীয় শোক দিবস ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মরণে দ্য ফেডারেশন অভ্ বাংলাদেশ চেম্বার্স অভ্ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) এর উদ্যোগে “বঙ্গবন্ধুর এসএমই উন্নয়ন ভাবনা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিল্পমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঢাকার মতিঝিলে এফবিসিসিআই আইকনে আজ এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মোঃ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. মোঃ মাসুদুর রহমান।

 

শিল্পমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫৬ সালে শিল্প, বাণিজ্য, শ্রম, দুর্নীতি দমন ও গ্রাম সহায়তা দপ্তরের মন্ত্রী ছিলেন। কোয়ালিশন সরকারের শিল্পমন্ত্রী থাকাকালীন অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরসনকল্পে তৃণমূল পর্যায়ে শ্রমঘন শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এগিয়ে নেয়ার সূচনা করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৫৭ সালে দেশের ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের উন্নয়নে সংসদীয় আইনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তান ক্ষুদ্র শিল্প করপোরেশন (ইপসিক) প্রতিষ্ঠা করেন। স্বাধীনতার পর ইপসিককে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এ রূপান্তর করা হয়।

 

মন্ত্রী আরো বলেন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পখাত বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। রপ্তানি প্রবৃদ্ধি, পণ্য বৈচিত্র্যকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচনসহ সার্বিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতিতে এ খাতের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। অথচ এসএমই উদ্যোক্তাদের ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় ঋণ পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। বিভিন্ন কাগজপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়; যা ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য জোগাড় করা কষ্টকর। এসএমই উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক হতে ঋণ প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা দরকার।

 

সেমিনারে বক্তারা এসএমইখাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতি আহ্বান জানান।

 

 

বঙ্গবন্ধু হত্যার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জিয়া ও তার পরিবার : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট):

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহ্‌মুদ বলেছেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যার সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী জিয়াউর রহমান ও তার পরিবার। এটি সত্য, এটিই বাস্তবতা।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের প্রসিডিং যদি কেউ পড়েন, সেখানে সাক্ষীদের ও আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানতে পারবেন কে কীভাবে এই ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিল। বিশেষ করে জিয়াউর রহমান কীভাবে এই ষড়যন্ত্রের অন্যতম প্রধান কুশীলব ছিল। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর খন্দকার মোশতাক জিয়াউর রহমানকে বেছে নিয়েছিলেন প্রধান সেনাপতি করার জন্য। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর জিয়াউর রহমান ইমডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর হত্যাকারীদের পালানোর সুযোগ করে দেয় এবং পরবর্তীতে তাদেরকে বিভিন্ন দূতাবাসে রাষ্ট্রদূতের চাকরি দিয়ে পুনর্বাসন করে।’ 

আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে তাদের আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী একথা বলেন। জাতীয় প্রেসক্লাব সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, সাবেক প্রধান তথ্য অফিসার গোলাম রহমান, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক সাইফুল আলম, বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক, ডিইউজে সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল আলম স্বাগত বক্তব্য দেন ও কোষাধ্যক্ষ শাহেদ চৌধুরী আলোচনায় অংশ নেন। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বেগম খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের পুনর্বাসন করেছেন। এমনকি বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিকে তিনি বিরোধীদলীয় নেতার আসনেও বসিয়েছেন। জিয়াউর রহমানসহ যারা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডের মূল কুশীলব, পরিকল্পনাকারী ছিল, তাদের ব্যাপারে জাতিকে অবহিত করার জন্য জাতীয় প্রেসক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে গত বছর একটি কমিশন গঠন করার দাবি করে। বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকেও এই দাবি উঠেছে, আমাদের দলের পক্ষ থেকেও এই দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে এটির সাথে একমত, একাত্মতা পোষণ করি। সরকার সেই লক্ষ্যে কাজ করছে। আইনমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন একটি কমিশন গঠন করা হবে।’ 

হাছান মাহ্‌মুদ বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন হবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু তার সাথে বিশ্ব প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হলেই আমি মনে করি সংবাদ ঠিক হয়, জনগণ ঠিক চিত্রটি পায়। শুধু বাংলাদেশের কথাটা বললাম, পাশের দেশে, ইউরোপ-আমেরিকায় কী হচ্ছে, এটি বললাম না, তাহলে তো জনগণ বিভ্রান্ত হবে। এসময় পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি অস্ট্রেলিয়াতে ৯ দশমিক ২ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৯ দশমিক ৬শতাংশ, তুরস্কে ৭৯ দশমিক ৬শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্রে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৯ দশমিক শতাংশ, পাকিস্তানে ২৪ দশমিক ৯ শতাংশ, নেপালে ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ, ভারতে ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে ৭ শতাংশের এর মধ্যে ওঠা-নামা, আমাদের দেশে মে মাস পর্যন্ত ৭ শতাংশের নিচে ছিল, পরে একটু বেড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।  অর্থাৎ অনেক দেশের তুলনায় আমাদের দেশে মূল্যস্ফীতি কম। তাই বলে আমরা এটিকে স্বস্তিদায়ক বলছি না, আরো কমিয়ে আনতে চেষ্টা করছি।’

জাতীয় শোক দিবস

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান

 

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

আগামীকাল ১৫ আগস্ট সারাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালন করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে এ দিবসে বাদ যোহর দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের আহ্বান জানানো হয়েছে।

দেশের সকল মসজিদের খতিব, ইমাম ও মসজিদ কমিটিসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া আগামীকাল বায়তুল মুকাররম জাতীয় মসজিদসহ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সকল বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়, ৫০ টি ইসলামিক মিশন, ৭টি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি ও মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের গণশিক্ষা কেন্দ্রসমূহে বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

 

ডিজিটাল বিপ্লব কৃষিতে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করেছে : টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

          ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, পৃথিবীতে চারটি শিল্প বিপ্লবের আগে কৃষি সভ‌্যতার যুগ শেষ হয়ে গেলেও ডিজিটাল বিপ্লবের ধারাবাহিকতায় কৃষিতে বিপুল সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুযোগ কাজে লাগিয়ে কৃষি ও মৎস‌্যখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনে আমাদের কাজ করার সুযোগ এসেছে। তিনি ময়মনসিংহ অঞ্চলের উর্বর মাটিকে কৃষি ও মৎস‌্য চাষে ডিজিটাল কৃষি বিপ্লবে রূপান্তরে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

          মন্ত্রী গতকাল ময়মনসিংহ বিভাগ সমিতি ঢাকার উদ্যোগে ডিজিটাল প্লাটফর্ম আয়োজিত বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো: আনিসুর রহমান খানের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ আহ্বান জানান।

          মোস্তাফা জব্বার এডভোকেট আনিসুর রহমান খানের দৃঢ়তা, আদর্শ এবং অবদান দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে উল্লেখ করে বলেন, ময়মনসিংহ বিভাগ আন্দোলনের এই নেতা তাঁর কর্মের মাঝে চির অম্লান হয়ে থাকবেন।

বিশিষ্ট টিভি ও নাট্য ব্যক্তিত্ব, ময়মনসিংহ বিভাগ সমিতি ঢাকার সভাপতি ম. হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে. এম খালিদ, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি ঢাকার সভাপতি মো: আবুল কালাম আজাদ, সাবেক সি. সচিব আবদুস সামাদ প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফা জব্বার মহান মুক্তিযুদ্ধে আনিসুর রহমান খানের অবদান তুলে ধরে বলেন, তিনি তাঁর কাজের মাধ্যমে বেঁচে থাকবেন। ময়মনসিংহ ব্রিটিশ ভারতের সর্ববৃহৎ জেলা হলেও নানা কারণে ময়মনসিংহ অঞ্চল অবহেলিত। সম্মিলিত উদ্যোগে ময়মনসিংহ একটি ডিজিটাল কৃষি অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আনিসুর রহমানের আন্দোলনকে বাস্তবায়িত করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি আরো বলেন, আইওটি প্রয়োগ করে কৃষি ও মৎস‌্যখাত অত‌্যন্ত লাভজনক করা সম্ভব।

সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আনিসুর রহমানের জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, তাঁর মতো একজন মানুষ বড় প্রয়োজন। 

পরে মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

 

জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠানে পালনীয় নির্দেশনা

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

          ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস পালনকালে কোভিড সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে এবং জনগণকে নিরাপদ রাখতে সরকার একটি গাইডলাইন জারি করেছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইস্যুকৃত গাইডলাইনের মধ্যে রয়েছে: শোক দিবসের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের আবশ্যিকভাবে মাস্ক পরতে হবে; কোভিড টিকা গ্রহণের সনদ দেখাতে হবে; অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের ও বের হওয়ার আলাদা আলাদা পথ রাখতে হবে; অনুষ্ঠানস্থলে সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার বা স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা রাখতে হবে এবং অনুষ্ঠানস্থলের ধারণ ক্ষমতার অর্ধেক বা তারও কম সংখ্যক অংশগ্রহণকারী নিয়ে অনুষ্ঠান করতে হবে। এছাড়া, সর্দি, কাশি, জ্বর বা শ্বাসকষ্ট নিয়ে কেউ অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে পারবে না।

 

Prime Minister’s message on the National Mourning Day

Dhaka, 14 August : 

            Prime Minister Sheikh Hasina has given the following message on the occasion of the National Mourning Day and the 47th martyrdom anniversary of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman:  

            “The 15 August is our National Mourning Day. On this day in 1975, the Greatest Bangalee of all time, Father of the Nation, President Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman along with most of his family members was brutally assassinated. 

Eighteen members of the Father of the Nation’s family including Bangamata Fazilatun Nesa Mujib, three sons–valiant Freedom Fighter Captain Sheikh Kamal, valiant Freedom Fighter Lieutenant Sheikh Jamal and 10-year old Sheikh Russel, two daughters-in-law Sultana Kamal and Rosy Jamal, brother valiant Freedom Fighter Sheikh Abu Naser, youth leader valiant Freedom Fighter Sheikh Fazlul Haq Moni and his pregnant wife Arzu Moni, peasant leader valiant Freedom Fighter Abdur Rab Serniabat, his daughter Baby Serniabat, son Arif Serniabat, nephew journalist Shaheed Serniabat, grandson Sukanta Babu, and Abdul Nayeem Khan Rintu, among others, were assassinated by the heinous killers on that fateful night. President’s Military Secretary Brigadier General Jamil, and on duty ASI of Special Branch of Police Siddiqur Rahman were also murdered. Several members of a family died in the capital’s Mohammadpur area by artillery shells fired by the killers on the day. On this National Mourning Day, I humbly remember all the martyrs of the 15 August and pray to the Almighty Allah for the salvation of their departed souls. 

Under the visionary and strong leadership of the Father of the Nation, the Bangalee Nation broke the shackles of subjugation and snatched away our great Independence. The anti-liberation clique killed Bangabandhu Sheikh Mujib at a time when he was engaged in the struggle of building a Golden Bangladesh by reconstructing the war-ravaged country. Through the murder of Bangabandhu Sheikh Mujib, the defeated forces of the Liberation War made ill-attempts to ruin the tradition, culture and advancement of the Bangalee Nation. The aim of the killers was to break the state structure of a secular democratic Bangladesh and foil our hard-earned Independence. The anti-liberation forces involved in the carnage initiated the politics of killing, coup and conspiracy in the country right after the 15 August 1975. They also impeded the trial of Bangabandhu Sheikh Mujib murder by promulgating Indemnity Ordinance. Ziaur Rahman illegally took over the state power; promulgated Martial Law; suspended democracy; tailored the Constitution; rewarded the killers and gave them jobs in the Bangladesh missions abroad. He gave nationality to the anti-liberation war criminals; made them partners in the state power and rehabilitated them politically and socially. The subsequent illegal military government and the BNP-Jamaat alliance government followed the same path.

Bangladesh Awami League assumed the state power after 21 years, winning the general elections on 12 June 1996. We initiated the trial of Bangabandhu Sheikh Mujib murder. But the BNP-Jamaat alliance government stopped this trial after assuming to power in 2001 through conspiracy. The countrymen elected Awami League to power again with a huge majority in the 9th parliamentary elections on 29 December 2008. Overcoming the stalemates left by the previous BNP-Jamaat government and global economic recession, we put the country on a firm economic footing. During the past thirteen and a half years, we have achieved desired advancement in every sector. During this period, Bangladesh has attained the status of a developing nation. Bangladesh has become a ‘role model’ of socio-economic development in the world. Our government has relentlessly been working to turn Bangladesh into a developed country by 2041. 

Thwarting all kinds of conspiracies, we have completed execution of the verdict of Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman murder case. The nation got rid of the stigma through the execution of the verdict. Hopefully, names of those who were behind the conspiracy to assassinate the Father of the Nation will also come out one day. The trial of the killers of four national leaders has also been completed. The verdicts of the cases against the war criminals of 1971 are being executed. Our government has been following ‘zero tolerance’ policy to uproot militancy-terrorism. The path of grabbing state power illegally and unconstitutionally has been stopped through the 15th amendment to the Constitution.  

Though the killers were able to murder Bangabandhu Sheikh Mujib, they could not kill his dreams and ideals. But the anti-liberation communal groups and the anti-democracy forces have still been hatching conspiracies by different means. I urge all to resist any conspiracy and
ill-attempt by the evil forces to protect the continuation of democracy and development of the country 

Let’s turn our grief of losing Bangabandhu Sheikh Mujib into our strength. Let’s build a non-communal, hunger-poverty-free prosperous Golden Bangladesh as dreamt by the Father of the Nation through reflecting the glory and ideals of his long struggling life in our actions; this should be our firm pledge on this National Mourning Day. 

      Joi Bangla, Joi Bangabandhu, May Bangladesh Live Forever.”

 

President’s message on the National Mourning Day

 

Dhaka, 14 August :

            President Md. Abdul Hamid has given the following message on the occasion of the National Mourning Day and the 47th martyrdom anniversary of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman:  

“August 15 is a scandalous chapter in the history of the Bengali nation. On this fateful night of 1975, the undisputed leader and the greatest Bangalee of all time, Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman was brutally assassinated at his Dhanmondi residence by a group of killers with the direct and indirect connivance of anti-liberation forces. His wife Bangamata Sheikh Fazilatunnessa Mujib, sons Sheikh Kamal, Sheikh Jamal and Sheikh Russel, and many of his near and dear ones were also killed along with Bangabandhu. On the 47th martyrdom anniversary of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and National Mourning Day, I pay my deep homage to them and pray to the Almighty Allah for the eternal peace of the departed souls.

Bangabandhu was a visionary leader of the Bengali Nation and the architect of our Independence. He led the nation at every democratic and freedom movements including the ‘All-party State language Action Committee’ formed to ensure the right to mother-tongue in 1948, the historic Language Movement in 1952, Juktafront Election in 1954, the movement against Martial Law in 1958, the movement against anti-people Education Commission in 1962, SixPoint Movement in 1966, Mass Upsurge in 1969 and the General Elections in 1970, all of which were directed towards realizing Bangalees` emancipation and their rights. For this, he had to embrace jail several times.

               Bangabandhu was uncompromising in establishing fundamental human rights and independence. He, even on the gallows, upheld the interest of Bangla and Bangalees. Ignoring the blood-curdling eyes of the then Pakistani rulers, Bangabandhu delivered a historic speech on 07 March in 1971 before a mammoth gathering at the then Race Course Maidan. With unique eloquence and political wisdom, Bangabandhu, combining the emotions, dreams and aspirations of Bangalees in a single thread, thunderously uttered, ‘The struggle this time is the struggle for emancipation, the struggle this time is the struggle for Independence’ which was, in fact, the call for Independence. In line with this historic speech, he finally declared the country’s Independence on March 26, 1971 and subsequently we achieved victory through a nine-month-long armed war of liberation under his leadership. Bangabandhu and Bangladesh thus emerged as a unique entity to the people of Bangladesh. Bangabandhu has made an outstanding contribution in establishing world peace along with equality, friendship and democracy throughout his life. He was a symbol of independence and ambassador of freedom for oppressed and exploited people in the world.                Addressing the Non-Aligned Conference in Algiers on September 9, 1973, he said, ‘The world today is divided into two–the exploiters and the exploited: I am on the side of the exploited’.  Bangabandhu is no longer with us, but his principles and ideals will always inspire the freedom-seeking people to attain their rights and the mass awakening against exploitation and oppression around the world. The assassins killed the Father of the Nation but could not erase his principles and ideals. Bangabandhu will remain an eternal source of inspiration not only for millions of Bangalees in this country, but also for freedom-seeking people of the world.

               Bangabandhu has struggled throughout his life with the aim of achieving political freedom as well as economic emancipation of the people. His dream was to establish a ‘Golden Bangla’ free from hunger and poverty. For this purpose, a people-oriented constitution was formulated within one year of Independence. Bangabandhu did not just give us a country; He also formulated a contemporary outline of what the economic, social, political and cultural structure of a newly independent state would look like.                Bangabandhu always had trust and faith in his people. He used to give most importance to the united and joint efforts of the people to achieve development and self-reliance. Bangladesh is moving forward with the aim of building a self-reliant country on the path shown by Bangabandhu, under the able leadership of his worthy daughter Hon’ble Prime Minister Sheikh Hasina. She announced ‘Vision 2041’ to turn Bangladesh into a developed and prosperous country. Padma Bridge, a unique milestone in the development of Bangladesh, has already been opened for traffic. Metro rail, Karnaphuli Tunnel and other mega projects will be completed very soon and a new chapter in the development history of Bangladesh will be introduced. Our responsibility will be to make Bangladesh a happy and prosperous country by completing Bangabandhu’s incomplete task by being enriched with knowledge and dignity. Only then will proper respect be shown to this great leader. On the National Mourning Day, let us transform our grief into strength and devote ourselves to build the ‘Sonar Bangla’ as dreamt by the Father of the Nation.

Joi Bangla.

Khoda Hafez, May Bangladesh Live Forever.”

 

জাতীয় শোক দিবসে প্রধানমন্ত্রীর বাণী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :    

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন : 

“১৫ আগস্ট আমাদের জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে ঘাতকরা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করে।

জাতির পিতার সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন পুত্র- বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, দশ বছরের শিশুপুত্র শেখ রাসেল, পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, একমাত্র সহোদর বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের, কৃষকনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, বেবী সেরনিয়াবাত, আরিফ সেরনিয়াবাত, সাংবাদিক শহিদ সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে ঘৃণ্য ঘাতকরা এ দিনে হত্যা করে। রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জামিল এবং কর্তব্যরত পুলিশের বিশেষ শাখার এএসআই সিদ্দিকুর রহমান নিহত হন। ঘাতকদের কামানের গোলার আঘাতে মোহাম্মদপুরে একটি পরিবারের বেশ কয়েকজন হতাহত হন। জাতীয় শোক দিবসে আমি সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছি ১৫ আগস্টের সকল শহিদকে এবং তাঁদের রুহের মাগফেরাত কামনা করছি। 

জাতির পিতার দূরদর্শী ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙ্গে ছিনিয়ে এনেছিল আমাদের মহান স্বাধীনতা। সদ্য স্বাধীন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন সমগ্র জাতিকে নিয়ে সোনার বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামে নিয়োজিত, তখনই স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধী চক্র তাঁকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ হত্যা করে। এই হত্যার মধ্য দিয়ে তারা বাঙালি জাতির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও অগ্রযাত্রাকে স্তব্ধ করার অপপ্রয়াস চালায়। ঘাতকদের উদ্দেশ্যই ছিল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোকে ভেঙে আমাদের কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে ভূলুণ্ঠিত করা। এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত স্বাধীনতাবিরোধী চক্র ’৭৫-এর ১৫ আগস্টের পর থেকেই হত্যা, ক্যু ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করে। তারা ইনডেমনিটি অর্ডিনেন্স জারি করে জাতির পিতার হত্যার বিচারের পথকে বন্ধ করে দেয়। জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে মার্শাল ল’ জারির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করে; সংবিধানকে ক্ষত-বিক্ষত করে; হত্যাকারীদের পুরস্কৃত করে; বিদেশে দূতাবাসে চাকুরি দেয়। স্বাধীনতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের নাগরিকত্ব দেয়; রাষ্ট্রক্ষমতার অংশীদার করে; রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পুনর্বাসিত করে। পরবর্তী অবৈধ সামরিক সরকার এবং বিএনপি-জামাত সরকারও একই পথ অনুসরণ করে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সাধারণ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর সরকার গঠন করে। আমরা জাতির পিতার হত্যার বিচার শুরু করি। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসে এই হত্যার বিচার কাজ বন্ধ করে দেয়। ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে পূর্ববর্তী সরকারগুলোর রেখে যাওয়া অচলাবস্থা এবং বিশ্বমন্দা কাটিয়ে দেশকে দৃঢ় অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করার কাজ শুরু করে। গত সাড়ে ১৩ বছরে আমরা দেশের প্রতিটি সেক্টরে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন করেছি। এই সময়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জন করেছে। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশ বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হয়েছে। আমাদের সরকার ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে আমরা জাতির পিতার হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করেছি। এ হত্যাকাণ্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়। আশা করি, জাতির পিতার হত্যার ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল সেটাও একদিন বের হয়ে আসবে। জাতীয় চার নেতা হত্যার বিচারও সম্পন্ন হয়েছে। একাত্তরের মানবতাবিরোধী-যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে। জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলের সুযোগ বন্ধ হয়েছে। 

ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যা করলেও তাঁর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘটাতে পারেনি। কিন্তু স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এবং গণতন্ত্র বিরোধী চক্র এখনও নানাভাবে চক্রান্ত-ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে। এই অপশক্তির যে কোন অপতৎপরতা-ষড়যন্ত্র ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা করে দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষার জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে আমি সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।

আসুন, আমরা জাতির পিতা হারানোর শোককে শক্তিতে পরিণত করি। তাঁর আত্মত্যাগের মহিমা এবং দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনাদর্শ আমাদের কর্মের মাধ্যমে প্রতিফলিত করে সকলে মিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বপ্নের অসাম্প্রদায়িক, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলি- জাতীয় শোক দিবসে এই হোক আমাদের সুদৃঢ় অঙ্গীকার।

           জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু

                      বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”

জাতীয় শোক দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণী

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

 

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আগামীকাল ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে নিম্নোক্ত বাণী প্রদান করেছেন :                                                                                                                           

“বাঙালি জাতির ইতিহাসে ১৫ আগস্ট এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ১৯৭৫ সালের এদিনে মু্ক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মদদে ঘাতকচক্রের নির্মম বুলেটের আঘাতে ধানমণ্ডির নিজ বাসভবনে শাহাদতবরণ করেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। একই সাথে শহিদ হন বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শিশুপুত্র শেখ রাসেলসহ অনেক নিকটাত্মীয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষ্যে আমি ১৫ আগস্টের সকল শহিদের  স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি এবং পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে তাঁদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

বঙ্গবন্ধু ছিলেন বাঙালি জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা ও মহান স্বাধীনতার রূপকার। ১৯৪৮ সালে ভাষার দাবিতে গঠিত সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বসহ ১৯৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলন, ‌’৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৫৮ এর সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, ’৬২ এর গণবিরোধী শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, ’৬৬ এর ৬-দফা, ’৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান ও ’৭০ এর নির্বাচনসহ বাঙালির মুক্তি ও অধিকার আদায়ে পরিচালিত প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বাধিকার আন্দোলনে তিনি নেতৃত্ব দেন। এজন্য তাঁকে বারবার কারাবরণ করতে হয়।

মানুষের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীকারের প্রশ্নে বঙ্গবন্ধু ছিলেন আপসহীন। ফাঁসির মঞ্চেও তিনি বাংলা ও বাঙালির জয়গান গেয়েছেন। তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু অসীম সাহসিকতার সাথে ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে লাখো জনতার উদ্দেশ্যে এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ভাস্বর ওই ভাষণে বাঙালির আবেগ, স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষাকে একসূত্রে গেঁথে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন‍, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতারই ডাক। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁরই নেতৃত্বে দীর্ঘ নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা বিজয় অর্জন করি। বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ আজ অভিন্ন সত্তায় পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু আজীবন সাম্য, মৈত্রী, গণতন্ত্রসহ বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদান রেখেছেন। তিনি ছিলেন বিশ্বে নির্যাতিত, নিপীড়িত ও শোষিত মানুষের স্বাধীনতার প্রতীক, মুক্তির দূত। ১৯৭৩ সালের ৯ সেপ্টেম্বর আলজিয়ার্সে জোট নিরপেক্ষ সম্মেলনে ভাষণে তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আজ দু’ভাগে বিভক্ত-শোষক আর শোষিত: আমি শোষিতের পক্ষে’। বঙ্গবন্ধু আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর নীতি ও আদর্শ বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের অধিকার আদায়ে এবং শোষণ-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণজাগরণে সবসময় অনুপ্রেরণা যোগাবে। ঘাতকচক্র জাতির পিতাকে হত্যা করলেও তাঁর নীতি ও আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি। বঙ্গবন্ধু এ দেশের লাখো-কোটি বাঙালিরই শুধু নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্যও প্রেরণার চিরন্তন উৎস হয়ে থাকবেন।

বঙ্গবন্ধু রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণের অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনের লক্ষ্যে সারাজীবন সংগ্রাম করে গেছেন। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রতিষ্ঠাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। এ লক্ষ্যে স্বাধীনতার এক বছরের মাথায় প্রণয়ন করেন একটি গণমুখী সংবিধান। বঙ্গবন্ধু শুধু একটি দেশই উপহার দেননি; তিনি সদ্য স্বাধীন একটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কাঠামো কেমন হবে তারও একটি যুগোপযোগী রূপরেখা প্রণয়ন করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু সবসময় জনগণের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস রাখতেন। উন্নয়ন ও স্ব-নির্ভরতা অর্জনে মানুষের ঐক্যবদ্ধ ও যৌথ প্রচেষ্টাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতেন। বঙ্গবন্ধুর দেখানো সেই পথে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে স্বনির্ভর দেশ গড়ার লক্ষ্যে। দেশকে একটি উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে তিনি ঘোষণা করেছেন ‘রূপকল্প ২০৪১’। বাংলাদেশের উন্নয়নের অনন্য মাইলফলক পদ্মা সেতু ইতোমধ্যে যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেলসহ আরো কয়েকটি মেগা প্রকল্পের কাজ খুব শীঘ্রই শেষ হবে এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সূচিত হবে। আমাদের দায়িত্ব হবে জ্ঞান-গরিমায় সমৃদ্ধ হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসম্পূর্ণ কাজকে সম্পূর্ণ করে বাংলাদেশকে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করা। তাহলেই চিরঞ্জীব এই মহান নেতার প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। আসুন, জাতীয় শোক দিবসে আমরা জাতির পিতাকে হারানোর শোককে শক্তিতে রূপান্তর করি এবং তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে নিজেদের আত্মনিয়োগ করি।

জয় বাংলা।

খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।”  

 

জাতীয় শোক দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন বিষয়ক নির্দেশনা

 

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :     

  

১৫ আগস্ট স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন ও বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

জাতীয় পতাকা বিধি অনুসরণে পতাকার রং হবে গাঢ় সবুজ এবং 10:6 দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের আয়তাকার ক্ষেত্রের গাঢ় সবুজ রঙের মাঝখানে লাল বৃত্ত থাকবে। বৃত্তের ব্যাসার্ধ হবে পতাকার দৈর্ঘ্যের এক-পঞ্চমাংশ। ভবনে উত্তোলনের জন্য পতাকার তিন ধরনের মাপ হচ্ছে দশ ফুট বাই ছয় ফুট (10©x6©), পাঁচ ফুট বাই তিন ফুট (5©x3©)  এবং আড়াই ফুট বাই দেড় ফুট (2.5©x1.5©)।

সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের সময় প্রথমে পতাকা দণ্ডের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উত্তোলন করতে হবে। এরপর নামিয়ে অর্ধনমিত অবস্থায় বাঁধতে হবে। ‍দিনশেষে পতাকা নামানোর সময় আবার দণ্ডের সর্বোচ্চ চূড়া পর্যন্ত উঠাতে হবে, তারপর ধীরে ধীরে নামাতে হবে।

 

Program of National Mourning Day

Dhaka, 14 August :

            Elaborate programmes have been chalked out to observe the 47th martyrdom anniversary of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman and National Mourning Day on 15 August. The national flag will be hoisted half-mast in all government, semi-government, autonomous institutions, educational institutions and private buildings including Bangladesh missions abroad.

            At 6.30 am in the morning of 15 August, the President and the Prime Minister will lay floral wreaths at the portrait of Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman at Dhanmondi Road-32 in the capital. A guard of honor will be presented by the armed forces and prayers will be offered.

            At 7.30 am, the Prime Minister will place wreaths and flower petals in the Banani Graveyard on the graves of the family members of the Father of the Nation and other martyrs who were brutally killed on August 15, 1975, along with Bangabandhu, for eternal peace of the departed souls. She will also offer Fateha and munajat for salvation of the souls of the martyrs there.  

            The Prime Minister will pay homage to the Father of the Nation by placing wreath at mazar of Bangabandhu at Tungipara in Gopalganj at 10 O’clock in the morning. Apart from Honor Guard by the Armed Forces, Fateha will be recited and munajat will be offered at Bangabandhu Mausoleum complex.

            Special doa and munajat will be held in mosques across the country after Johr prayers on August 15 marking the occasion. Special prayer programs will also be organized in temples, churches, pagodas and other religious institutions.

            Special supplement will be published in national dailies and periodicals on the occasion. Department of Films and Publications (DFP) has published posters for distribution across the country. Posters in English language have already been dispatched to Bangladesh diplomatic missions abroad. On the occasion of mourning day, Department of Mass Communication will screen documentary films on life and works of Bangabandhu across the country. The Press Information Department (PID) organized a week-long photo exhibition at the Bangladesh Secretariat. Regional Information Offices under PID also arranged Photo Exhibition at divisional level. Bangladesh Betar and Bangladesh Television organized special programs on the occasion.

            All public and private primary schools, high schools, madrasas, colleges, medical colleges and universities and other educational institutions will organize discussion meetings, poetry recitations, essay writing and painting competitions, art exhibitions, hamd-naat competitions and doa mahfils.

            In line with the national program, discussion meetings, doa mahfil and other programs will be held at the district and upazila levels. Government officials will actively participate in the events. All City Corporations, Municipalities and Union Parishads of the country will chalk out and implement their own mourning day programs.

 The programs of Dhanmondi, Banani and Tungipara will be broadcast live on Bangladesh Betar and Bangladesh Television. Other private television channels, FM radio and community radio will also broadcast the programs live with the help of Bangladesh Betar and Bangladesh Television.

 

জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি

ঢাকা, ৩০ শ্রাবণ (১৪ আগস্ট) :   

           স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে বিদেশে বাংলাদেশ মিশনসহ সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকবে।

          ১৫ আগস্ট সোমবার সকাল সাড়ে ৬ টায় ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রাঙ্গণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। সশস্ত্রবাহিনীর অনার গার্ড প্রদান এবং মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

          সকাল সাড়ে ৭ টায় বনানী কবরস্থানে জাতির পিতার পরিবারের সদস্যবৃন্দ ও অন্যান্য শহিদদের কবরে প্রধানমন্ত্রীর পুষ্পস্তবক ও ফুলের পাপড়ি অর্পণের পর ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

          এদিন সকাল ১০টায় গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রী পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন। সশস্ত্রবাহিনীর অনার গার্ড ছাড়াও সমাধি কমপ্লেক্সে ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করা হবে।

          শোক দিবসে সারাদেশের মসজিদসমূহে বাদ যোহর বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। মন্দির, গির্জা, প্যাগোডা ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

          তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় দৈনিক ও সাময়িকীতে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। এছাড়া শোক দিবস উপলক্ষ্যে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর পোস্টার প্রকাশ করেছে। সারাদেশে গণযোগাযোগ অধিদপ্তর বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের ওপর প্রামাণ্য চলচ্চিত্র প্রদর্শন করবে। তথ্য অধিদফতর বাংলাদেশ সচিবালয়ে সপ্তাহব্যাপী আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বিভাগীয় পর্যায়েও আঞ্চলিক তথ্য অফিস আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবস উপলক্ষ্যে বিশেষ অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করেছে।

সকল সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা, কলেজ, মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আলোচনা সভা, কবিতা পাঠ, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, চিত্র প্রদর্শনী, হামদ-নাত প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে।

          জাতীয় কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিলসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালিত হবে। অনুষ্ঠানসমূহে সরকারি কর্মকর্তাগণকে আবশ্যিকভাবে সক্রিয় অংশগ্রহণ করতে হবে। দেশের সকল সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ শোক দিবসের নিজ নিজ কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করবে।

ধানমন্ডি, বনানী ও টুঙ্গিপাড়ার অনুষ্ঠান বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচারিত হবে। এছাড়া অন্যান্য বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, এফএম বেতার ও কমিউনিটি রেডিও এ অনুষ্ঠানসমূহ সরাসরি সম্প্রচার করবে।

 

Read us@googlenews

Social

More News
© Copyright: 2020-2022

Bangladesh Beyond is an online version of Fortnightly Apon Bichitra 

(Reg no: DA 1825)

Developed By Bangladesh Beyond